Sunday, 12 November 2017

অশোক কি বৌদ্ধ হতে পেরেছিলেন ?

অশোক কি বৌদ্ধ হতে পেরেছিলেন ?

মৌর্য সাম্রাজ্য ভারতের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে , কারণ , এই সাম্রাজ্য নিজ ক্ষমতা বলে সামান্য মগধ এর সাম্রাজ্য থেকে প্রায় সমগ্র উত্তর ভারতের অধিপতি হয়ে বসে ।। তৎকালীন ইতিহাস পর্যালোচনা করলে পরিষ্কার যে , মৌর্য্য বংশ যে পরিমান রাজ্য জয় করেছিল তা সত্য প্রশংসার যোগ্য ।। তবে রাজ্য বিস্তার ছাড়াও যে বিষয়টি এই সময়ের প্রধান আলোচ্য বিষয় তা হল ক্রমাগত পরিবর্তন হতে থাকা ধর্ম ।। বিভিন্ন রাজার শাসনকালে বিভিন্ন ধর্মের প্রাধান্য এ সময়ে দেখা গেছে ।। তবে যার ধর্মনীতি নিয়ে সবসময় আলোচনা চলে এসেছে তা হল অশোক ।। অশোকের বৌদ্ধ ধর্ম অবলম্বন করা ও চণ্ডাশোক থেকে ধর্মাশোক এ পরিবর্তনের বিষয়টি চিরকাল আলোচনার বিষয় হয়ে ফুটে উঠেছে ।। 
অশোকের উত্তর কলিঙ্গ যুদ্ধ যুগ ও তারপর বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহন বিষয়টি আজও গবেষণার বিষয় ।। আমি এখানে সে নিয়ে বিশেষ আলোকপাত করতে আসিনি , শুধু এটুকু আলোচনা করতে এসেছি যে অশোক কি সত্যি বৌদ্ধ হতে পেরেছিলেন ।। এর উত্তর পেতে আমাদের ফিরে যেতে হবে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্যের শাসনকালে ।। 

চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্য : 

মৌর্য্য বংশের প্রতিষ্ঠা করেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্য , 322 খ্রিস্ট পূর্বব্দে ।। তার রাজত্বে সাম্রাজ্য বিশাল বিস্তার লাভ করে এবং মৌর্য্য এক শক্তিশালী শক্তিরূপে ফুটে ওঠে ।। কিন্তু জীবনের শেষ দিকে তিনি জৈন ধর্ম গ্রহন করেন এবং রাজ্যপাট সমস্ত ত্যাগ করেন ।। শ্রবনবেলগোলায় যখন তাকে মৃত পাওয়া যায় ( 187 BC) তখন তার শরীরে কোন বস্ত্র পর্যন্ত ছিল না ।।

বিন্দুসার : 

চন্দ্রগুপ্ত এর পর সিংহাসনে বসেন বিন্দুসার ।। এ বিষয়ে কোন সংশয় নেই যে তিনি হিন্দু ছিলেন ।। বৌদ্ধ ও জৈন উভয় মতেই এ বিষয়টি উল্লেখ করা আছে ।। বৌদ্ধ মতে তিনি ব্রাহ্মণ্য ধর্মে দীক্ষিত ছিলেন ।। বৌদ্ধ গ্রন্থ সামন্ত্পাসাদিকা ও মহাবংশে বিন্দুসারকে ব্রাহ্মণাভট্ট নামে উল্লেখ করা হয়েছে ।। আর জৈনদের মতে তিনি জৈন ছিলেন না ।।

অশোক : 

বিন্দুসার পুত্র অশোক তৃতীয় মৌর্য্য সম্রাট ছিলেন ।। তার ধর্ম নিয়ে কিছু সংশয় আজও থাকলেও , বেশিরভাগ জায়গায় এটি পরিষ্কার যে 263 তে কলিঙ্গ যুদ্ধের পরে তিনি বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহন করেন , যদিও কোন কোন ইতিহাসবিদ তাকে জৈন বলেও চিহ্নিত করেছেন ।। তবে বেশির ভাগ প্রমান চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে অশোক বৌদ্ধ ধর্মই গ্রহণ করেছিলেন এবং বৌদ্ধ ধর্ম প্রচার করেছেন ।। তবে তার এই হঠাৎ পরিবর্তনে কিছু সংশয় থেকেই যায় ।। প্রশ্ন উঠতেই থাকে অশোক কি বৌদ্ধ হতে পেরেছিলেন ? আর এই বিষয়টি আমরা বিভিন্ন প্রমান ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আলোচনা করে দেখার চেষ্টা করব ।।
ব্রিটিশ শাসনকাল অবধি এই দেশ অশোক নিয়ে সেরাম গবেষণা করে নি ।। তবে প্রথম জন মার্শাল সাঁচি ও সার্নাথ নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং পরবর্তীতে আলেক্সান্ডার কানিংহাম ভারহুত , সাঁচি , সার্নাথ ও মহাবধি মন্দির এর খোঁজ করেন যা অশোক সম্বন্ধে যথেষ্ট জানতে সাহায্য করেছে ।। 
এবার বৌদ্ধ কিছু সূত্র সম্বন্ধে বলছি যা অশোকের জীবন ও রাজত্বকালের ওপর যথেষ্ট আলোকপাত করেছে ।। দ্বিতীয় শতাব্দীতে লেখা সংস্কৃত অশোকবদন , অশোকের জীবনী ও শাসনকাল সম্পর্কে বিস্তৃত ব্যাখ্যা প্রদান করে থাকে ।। এ ছাড়াও পালি ভাষায় রচিত দীপবংশ ও মহাবংশ বই দুটিও অশোকের রাজত্বকালের ওপর যথেষ্ট আলোকপাত করেছিল ।। দুটি বই শ্রীলঙ্কা থেকে পাওয়া গেছে , যা প্রমান করে অশোকের রাজত্ব শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল ।। কিন্তু কিভাবে তা সম্ভব ? অশোক তো কলিঙ্গ বিস্তারের পরে নিজের রাজ্য বিজয় পর্ব শেষ করে দিয়েছিলেন ও বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষিত হন ।। 
এ সবই আলোচনার বিষয় এবং এ বিষয়ে আলোকপাত করতেই আজ এই লেখা ।। 
অশোকের শাসনকালে মোট 33 টি শিলা লিপি আজ অবধি আবিষ্কৃত হয়েছে এবং এখান থেকে স্পষ্ট বোঝা গেছে যে অশোক বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষিত ছিলেন এবং বৌদ্ধ ধর্মকে অনুসরণ করতেন ।। বর্তমান পাকিস্তান ও ভারত এর মধ্যে থেকে উদ্ধার হওয়া এই শিলালেখ বৌদ্ধ ধর্মের সাথে অশোকের সম্পর্কের প্রথম প্রমান হিসাবে আমরা গ্রহণ করেছি এবং এ প্রমান থেকে খুবই স্পষ্ট যে বৌদ্ধ রীতি মেনে অশোক সামাজিক কল্যানে রত হন , পশু হত্যা বন্ধের নির্দেশ দেন ।। 
এসব থেকে একটি কথা পরিষ্কার যে কলিঙ্গ যুদ্ধের পর অশোক সত্যি ধর্মাশোক হয়ে গিয়েছিলেন ।। অতীত জীবনে যে অশোকের ছবি আমরা দেখেছিলাম , অর্থাৎ যে অশোক নিজের 99 টি ভাইকে হত্যা করে সিংহাসনে বসেছিলেন এবং ক্রুরতার সাথে রাজ্য বিজয় শুরু করেন , তা সত্যি কি একটি যুদ্ধের পড়েই বদলে গেল ? এত রক্তের পথে যে সম্রাট হেঁটে এলেন , তিনি হঠাৎ বদলে গেলেন কেন ? অশোকের 13 নম্বর শিলালেখ থেকেও পরিষ্কার ছিল যে তিনি বৌদ্ধ ধর্মই গ্রহণ করেছিলেন , কিন্তু কেন ? পিতামহের ধর্ম ছিল জৈন বা পিতার হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে বৌদ্ধ ধর্মই কেন গ্রহণ করলেন ? এ সমস্ত প্রশ্ন ইতিহাসের মাধ্যমে আলোকপাত করাটাই আমাদের লক্ষ্য ।। বিশ্ব শান্তির এত বড় পথিকৃৎ অশোকের বৌদ্ধ ধর্ম নিয়ে ঘনিষ্ঠতার সত্যতা প্রমান সাপেক্ষে বিশ্লেষণ করে দেখাটাই আমার লক্ষ্য ।।
এবার কিছু উল্লেখযোগ্য বৌদ্ধ গ্রন্থ ও তার ভিত্তিতে অশোকের চরিত্রের ওপর আলোকপাত করার চেষ্টা করব ।। বৌদ্ধ দের অবদান অশোকের জীবনে হঠাৎ করে আসে নি একথা নিশ্চিন্তেই বলা সম্ভব , কারণ বৌদ্ধ আলোচনা থেকেই আমরা সর্বপ্রথম চণ্ডাশোক নামটি পেয়ে থাকি ।। বৌদ্ধ গ্রন্থ দীপবংশ ও মহাবংশে পরিষ্কার ভাবে উল্লিখিত আছে যে অশোক নিজের 99 টি ভাই কে হত্যা করে মগধের সিংহাসনে বসেন ।। অবশ্য ভিতাশোক বা তিশা কে কেন ছেড়ে দিয়েছিলেন সেটা আজও অজানা ।। তিনি শাস্তি প্রদানের জন্য ashoka's hell তৈরি করেছিলেন , যা সত্যি ভয়ানক ছিল ।। এই রূপ চরিত্রের মানুষ কলিঙ্গ বিজয়ের পর সম্পূর্ণ বদলে গেল এবং ধর্মাশোক হয়ে গেলেন , এও বৌদ্ধ প্রচারের ফলেই জানা গেছে ।। অশোকের 13 নম্বর শিলালেখ এ বিষয়ে আলোচনা করে গেছে ।।
এবারে আসা যাক অপর এক গ্রন্থের আলোচনা প্রসঙ্গে ।। অশোকের জীবন ও রাজত্বের ওপর লিখিত এই গ্রন্থটির নাম অশোকবদন ।। 303 এ ফাহিয়েন এটি অনুবাদ করেন ।। এই গ্রন্থে স্পষ্ট আকারে রাজা ও সংঘের সম্পর্ক বর্ণিত আছে , যা থেকে স্পষ্ট যে অশোক বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন এবং তিনি নিজের রাজক্ষমতার প্রয়োগ করে বৌদ্ধ ধর্মের প্রসার লাভ করেন ।। নিজের ছেলে মহেন্দ্র ও মেয়ে সংহমিত্রা কে শ্রীলঙ্কা , কামবডিয়া , সিলন , জাভা , ইন্দোনেশিয়া এবং বিভিন্ন দেশে পাঠান ।। দেশের নানা স্থানে বৌদ্ধ মঠ , স্তুপ নির্মাণ করেন ।। বিশ্বশান্তির এক অভূতপূর্ব যোজ্ঞ ভারতে শুরু হয় তার আমলের শেষ দিকে ।। 
চক্রবর্তী হতে আসা অশোক অবশেষে এক অদ্ভুত পরিবর্তন এর শিকার হন এবং এক অপূর্বদর্শিত রাজধর্ম ভারতে দেখা যেতে থাকে ।। এ সত্যি গর্বের বিষয় ছিল সমগ্র ভারত তথা বৌদ্ধ ধর্মের কাছে ।।
তবে সমকালীন যুগে উঠে আসা দুটি ধর্মের মধ্যে বৌদ্ধ ধর্মকে সমর্থনের ফলে , অশোক কে কাটঘরা থেকে নামানো সম্ভব নয় ।। এমন নয় যে তার পরিবারে অন্য ধর্মের ছোঁয়া লাগেনি ।। তার দাদু জৈন ধর্ম গ্রহন করেন , এবং জৈন রা বিশ্ব শান্তির কথাই বলে চলেছিলেন , তবু তার বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহন করাটা একেবারে বিশ্বাস করতে মন চায় না ।। হতে পারে , এটা তার ব্যক্তিগত মত ছিল , তবু প্রশ্ন থেকেই যায় অশোক কি সত্যি কলিঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে বুদ্ধর আশ্রয় নিলেন ? শান্তির এই পথে অশোক কি বৌদ্ধ হতে পেরেছিলেন ? তথ্য প্রমাণ কি বলেন সে সবই আলোচনার অংশবিশেষ ।। সর্বোপরি একটি প্রশ্ন মনে বড়োই উঁকি দিতে থাকে , ক্রোধ , বদ মেজাজ ত্যাগ করে শান্তির এই দূত হয়ে ওঠা অশোকের কোন কূটনৈতিক পরিকল্পনা ছিল না তো ? 
আবার ফিরে আসি অশোকবদন এর প্রসঙ্গে ।। বইটিতে কিছু বিষয় সত্যি অবাক করে দেয় ।। সে গুলি একবার পর্যালোচনা করে দেখে নেওয়া যাক ---
১. আমরা সবাই জানি অশোক কলিঙ্গ যুদ্ধের পর বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহন করেন ।। কিন্তু অশোকের জীবনী ও রাজত্বকালের ওপর লেখা বৌদ্ধদের সবচেয়ে প্রধান গ্রন্থটিতে কোথাও উল্লেখ নেই যে অশোক কলিঙ্গ যুদ্ধের পড়েই বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহন করেছিল ।।

২. ওই গ্রন্থ অনুযায়ী বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণের পরেও অশোক অহিংসা নীতি গ্রহণ করতে পারেনি ।। এ বিষয়ে একটি ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে বইটিতে ।। পুন্ড্রবর্ধন নামে জনৈক জৈন শিল্পী একটি ছবি আঁকেন , যেখানে বুদ্ধ কে নতজানু হতে দেখা যায় নিরগ্রন্থ জ্ঞাতিপুত্রের সামনে ।। এতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা রেগে যায় ও অশোকের কাছে অভিযোগ করেন ।। এ কথা শুনে অশোক ক্রোধিত হয়ে পুন্ড্রবর্ধন কে গ্রেফতার করেন ও তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন ।। 
এই ঘটনার কিছু দিন পরে অপর একজন ওই একই ছবি আঁকেন ।। অশোক তাকে পরিবার সহ পুড়িয়ে মারার আদেশ দেন ।। এর থেকে পরিষ্কার অশোকের মধ্যে যে চন্ডাল রূপ বিরাজ করছিল অতীত থেকে তা বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণের পরেও বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয় নি ।। সত্যি বলতে অশোক কোনদিনই বৌদ্ধ হতেই পারে নি ।। বৌদ্ধ বেসে অশোকের মনে এক কুটিল রাজনৈতিক চাল দেখা গেছে  , যা সত্যি বুঝে ওঠা বাকিদের পক্ষে কঠিন ছিল ।।
সমস্ত তথ্য প্রমাণ পেস করার পর দুটি প্রশ্ন মনে উঠে আসাটাই স্বাভাবিক ; 
১. অশোক রুপি কাক , তাহলে বৌদ্ধ রুপি ময়ূরের পেখম কেন ধারণ করল ? গিরগিটির মত তার এই রূপ পরিবর্তনের কারন কি ছিল ?
২. বৌদ্ধ কেন , জৈন কেন নয় ?
এর উত্তর খুঁজতে অশোকের অতীত টুকু একবার ঘেঁটে দেখতে হয় আমাদের ।। 
আগেই বলে এসেছি যে অশোকের পিতামহ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য জৈন ধর্ম গ্রহন করেন , এবং জৈন ধর্মের নিয়মেই নিজের সমস্ত কিছু ত্যাগ করেছিলেন ।। অশোক কিন্তু ত্যাগ করতে রাজসিংহাসনে বসেন নি ।। তার পিতা বিন্দুসার কোনোদিন অশোককে সিংহাসন দিতে চান নি ।। তার ইচ্ছে ছিল তার বড় ছেলে রাজা হোক ।। অশোক নিজের ক্ষমতা বলে রাজসিংহাসন দখল করেন ।। তার স্বপ্ন ছিল তিনি মগধের এই সাম্রাজ্যের পতাকা পুরো ভারতে ছড়িয়ে দেবেন এবং তার জন্য তিনি হিংস্র নীতি গ্রহণ করেছিলেন ।। তাই স্বাভাবিক ভাবে তার সমস্ত প্রাপ্তি তিনি ত্যাগ করবেন এটা ভাবাও মূর্খতা ।। আর সেই জন্যই জৈন ধর্ম তিনি গ্রহণ করেন নি ।।
তবে , বৌদ্ধ ধর্ম এই পূর্ণ ত্যাগের কথা বলে না , তাই বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণে তার আপত্তি হয় নি ।। তবে ধর্ম গ্রহন করলেও নিজেকে পরিবর্তন বা নিজের প্রায়শ্চিত্ত এসব তার ইচ্ছে ছিল না ।।
কলিঙ্গ যুদ্ধের পর সমগ্র উত্তর ভারত তার অধীনে চলে এসেছিল , কিন্তু তৎকালীন যুগে বিন্দ পর্বত ভেদ করে দক্ষিণ ভারতে যুদ্ধ করতে যাওয়া অসম্ভব ছিল , তাই তিনি ধর্মের ঘোমটার আড়ালে লুকিয়ে সে সমস্ত রাজ্য গুলিতে প্রবেশ করেন ।। তারাও বিশ্ব শান্তির দূত হিসাবে অশোকের বস্বতা স্বীকার করে নেয় ।।
এভাবে , এক কূটনৈতিক পদ্ধতি অবলম্বন করে অশোক পুরো ভারত সহ বিভিন্ন দেশে রাজত্ব বিস্তার করেছিলেন ।। 
এ সম্পূর্ণ আলোচনা থেকে দুটি জিনিস পরিষ্কার :
১. চণ্ডাশোক থেকে ধর্মাশোকে সম্রাট অশোক কোনদিন উত্তীর্ণ হন নি ।। এই তথ্যটি সম্পূর্ণ ভুল ও মিথ্যা ।।
২. একান্ত ব্যক্তিগত কারণে তিনি বৌদ্ধ ধর্মকে ব্যবহার করে গিয়েছেন এবং নিজে একজন নামধারি বৌদ্ধ হিসাবে জীবন কাটিয়ে গিয়েছিলেন ।।
অবশেষে , একটি কথা অবশ্যই বলব ; ইতিহাস থেকে এতকাল প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে এই আলোচনা , তাই জ্ঞানী গুণী সকলের মতামত অবশ্যই কাম্য ।।

No comments:

Post a Comment